গ্যাস খাতে দুর্নীতির খেসারত দেবে জনগণ?

গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে সাতবার। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বেড়েছে আবাসিকের চুলায়, সিএনজি ও শিল্পকারখানার ক্যাপটিভ বিদ্যুতে। প্রথম দুটির ভোক্তা সরাসরি সাধারণ মানুষ। তৃতীয়টি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের কাছ থেকেই বাড়তি টাকা তুলে নেন। আর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শ্রমিকের বেতনের ওপর কোপ পড়ে। শেষতক জ্বালানি পণ্য গ্যাস বা তেলের দাম যা–ই বাড়াক সরকার বাহাদুর, তার দায় সাধারণ মানুষের ওপরই গিয়ে বর্তায়।

গ্যাসের বাড়ার কারণ হিসেবে সরকারের যুক্তি হলো, বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে তা কম দামে দেওয়ায় বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটি সমন্বয় করার জন্যই এখন দাম বাড়াতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাজারে যা দাম তার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছে কেন সরকার?

সরকারের যুক্তি হলো বিজ্ঞাপনের মতো আধা সত্য। দেশে গ্যাস–সংকটের কারণেই সরকার এলএনজি আমদানি করছে। কিন্তু গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে গত ১০ বছর সরকার বিশেষ কিছু করেনি। এলএনজি আমদানি করার ব্যাপক পরিকল্পনা ১০ বছর ধরেই সরকার করলেও এ সময় স্থল ও সাগরভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য তেমন কিছু করেনি। এভাবে গ্যাস–সংকট অনিবার্য করে তুলে উচ্চমূল্যের এলএনজির দাম ভোক্তার কাঁধে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ সত্যটা হলো, বাংলাদেশ যখন ৮০০ টাকার গ্যাসের দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা করেছে, ভারত তখন ৭৬৩ রুপির গ্যাসের দাম ১০১ রুপি কমিয়ে ৬৬২ রুপি করেছে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কমেছে যখন ৫০ শতাংশ, তখন আমরা

বাড়িয়েছি গড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে গ্যাসের সহজপ্রাপ্যতার সব সম্ভাবনাও সরকার নষ্ট করে দিচ্ছে। স্থলভাগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স বহু বছরব্যাপী গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন সফলতার সঙ্গে করলেও সম্প্রতি রাশিয়ার গাজপ্রম, আজারবাইজানের সোকারের মতো বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে গ্যাসকূপ খননের কাজ করছে। যেখানে বাপেক্সের প্রতিটি কূপ খননে লাগছে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা, সেখানে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা।